রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

কম্পিউটার বিভাগ

কম্পিউটারের আবিস্কার বর্তমান যুগে বিজ্ঞানের অন্যতম সংযোজন। ১৯৪৬ সালে আধুনিক মডেলের কম্পিউটার আবিস্কৃত হবার পর থেকে ধাপে ধাপে উন্নত হচ্ছে এই ইলেকট্রনিক মেশিন। মানুষের তৈরি কম্পিউটার ’ডিপব্লু’র কাছেই পরাজিত হয়েছেন বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপরাভ। চার্লস ব্যাবেজ যিনি কম্পিউটারের জনক হিসেবে পরিচিত তিনি উনিশ শতকের শুরুতে ডিফারেন্স ইঞ্জিন নামে যে গণনা যন্ত্র তৈরি করেন, তার পথ বেয়েই এসেছে আজকের কম্পিউটার। বিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কম্পিউটারের এ পরিবর্তন আজও থামেনি। কম্পিউটারের এ বিবর্তন কোথায় গিয়ে থামবে, আমরা কেউ বলতে পারি না। এক সময় কম্পিউটারের আকার ছিল বিশাল। আজ তা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এখন এমন কম্পিউটারও আসছে যেগুলো চোখের দৃষ্টি দ্বারা পরিচালিত করা যায়। এই অগ্র যাত্রা যদি চলতে থাকে তবে মনে হয় সেদিন দুরে নয় যেদিন কম্পিউটার মানুষের মস্তিকের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে এবং মানুষকে তখন বলতেও হবে না চিন্তা দ্বারাই পরিচালিত হবে আগামী দিনের কম্পিউটার। আমরা সবাই সেই সোনালী সুদিনের অপেক্ষায় আছি।

১৯৯৪ সালে ”দি টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন প্রজেক্ট” (টিভিইপি) নামে বাংলাদেশে ৩টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে (রাজশাহী পলি, ঢাকা পলি, ঢাকা মহিলা পলি) কম্পিউটার টেকনোলজীর যাত্রা শুরু। বর্তমানে এমন কোন সরকারী পলিটেকনিক নাই যেখানে কম্পিউটার টেকনোলজী নাই। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের একমাত্র কম্পিউটার ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফেনী জেলায়। অদুর ভবিষ্যতে রাজশাহীতেও অনুরুপ একটি কম্পিউটার ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। চালুর পর থেকে এপর্যন্ত মোট ১৬টি ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রী পাশ করে বের হয়ে তারা আপন আপন কর্মক্ষেত্রে কর্মরত। এখন পর্যন্ত কোন ছেলে বেকার নাই। তারা কোন না কোন জবের সাথে জড়িত। বর্তমানে বিজ্ঞানের এক নতুন এবং অত্যাধুনিক চমক কম্পিউটার। কম্পিউটার আধুনিক বিশ্বের এক বিস্ময়। এমন কোন কাজ নেই যার সমাধান কম্পিউটারের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয়। যেসকল কাজ মানুষের পক্ষে করা কষ্টসাধ্য, কম্পিউটার আবিস্কারের পর সেসব অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত কম্পিউটারের অপারেশন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আরও অত্যাধুনিক হিসেবে রুপ নিচ্ছে। আগামী দিনে এ কম্পিউটার আমাদেরকে দিবে আরও নতুন বিস্ময়কর উপহার। তাই কম্পিউটার প্রকৌশলীদের নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সফটওয়ার ডিজাইন, গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া সহ ইন্টারনেট, আসিটি সেক্টর, ব্যাংকিং সেক্টর, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কৃষি ক্ষেত্রে, মহাকাশ গবেষনা, ই-কমার্স, ই-গভর্নেন্স, পরিবেশ ও আবহাওয়া, শিক্ষাক্ষেত্রে, অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশন, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, বিভিন্ন শিল্পকারখানার অটোমেটিক কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনায় কম্পিউটার প্রকৌশলীর বিশ্বমানের চাকুরীর সুবিধা রয়েছে।

এছাড়াও উচচ শিক্ষা গ্রহণের জন্য ডুয়েটে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি রয়েছে। প্রায় সকল প্রকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র আগ্রহ, প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা কাম্য।