রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

গত দুই দশকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়, নিরাময় এবং গবেষনায় ইলেকট্রোমেডিক্যাল ডিভাইসের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশেও হাসপাতাল, ক্লিনিক সহ চিকিৎসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় এ সব যন্ত্রপাতির ব্যবহার সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের জন্য খুব শিঘ্রই প্রয়োজন পড়বে অনেক দক্ষ মানব শক্তি। আর এ প্রয়োজন মেটাতেই সরকার দেশের কয়েকটি পলিটেকনিকের মত রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে চালু করেছে ইলেকট্রোমেডিক্যাল টেকনোলজি। ২০০৬ সালে এই টেকনোলজির যাত্রা শুরু হয়। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইকেট্রোমেডিক্যাল টেকনোলজির গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ইমেজ প্রক্রিয়াকরন, বিভিন্ন ধরনের টেস্টিং এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সহজ হয়। হাসপাতাল বা ক্লিনিক সমূহে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি যেমন এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, সিটি স্ক্যানার, আল্ট্রা সাউন্ড মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, এমআরআই, কালার ডপলার, এনজিওগ্রাম মেশিন, বায়োকেমিস্ট্রি এনালাইজার, ডেন্টাল সার্জারি ইউনিট, ডায়াথার্মি মেশিন এবং নিউক্লিয়ার মেশিনারীজ প্রভৃতি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করাই এই টেকনোলজির অন্যতম কাজ। এই টেকনোলজি থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন হাসপাতাল যেমন স্কয়ার, ল্যাবএইড, পপুলার, অ্যাপোলো, মেডিনোভা, ইবনে সিনা, ইউনাইটেড হাসপাতাল সহ বিভিন্ন সরকারি ইলেকট্রোমেডিক্যাল ওয়ার্কসপ, ক্লিনিক সমুহ এবং বিভিন্ন কোম্পানি যেমন হিটাচী, অ্যালেঞ্জার্স, বায়োটেক, বিএইচপি, আরডেন্ট, তোশিবা তে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল মেশিন সমুহের স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও অবারিত। উচ্চ শিক্ষার দ্বারও উন্মুক্ত। এই বিভাগ থেকে পাশকৃত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ডুয়েট সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইইই এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিক্যালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করার সুযোগ রয়েছে। জনসংখ্যা ও যুগের আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজনে এই টেকনোলজির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পেতে থাকবে।