রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর এবং ৭টি মেট্রোপলিটন সিটির মধ্যে অন্যতম হল রাজশাহী মহানগরী। এক সময় এই নগরী উন্নতমানের সিল্কের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল বলে একে সিল্ক সিটি নামে অভিহিত করা হয়। সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ যুগোপযোগী অধ্যয়ন ব্যবস্থাপনা এবং এর অনুকুল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের এই শহরটি শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। এই মেট্রোপলিটন সিটির জনসংখ্যা আনুমানিক ৮ লক্ষ ৫৩ হাজার এবং মোট জায়গা ৯৬.৬৯ বর্গ কিলোমিটার (৩৭.৩৩ বর্গমাইল)। শহরটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বড় নদী পদ্মার উত্তর তীর সংলগ্ন অবস্থিত। রাজশাহীর মেট্রোপলিটন শহরে ৪টি থানা, ৩৫টি ওয়ার্ড এবং ১৩৫টি মহল্লা রয়েছে। রাজশাহী শহরের পূর্ব নাম ছিল রামপুর বোয়ালিয়া। ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রখ্যাত আউলিয়া হযরত মাহ মখদুম (রহঃ) এর আগমনসহ ইসলাম ধর্ম প্রচারের কারণে এই জায়গাটি গুরুত্ব লাভ করে। ১৮২৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তাদের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নাটোর থেকে রামপুর বোয়ালিয়ায় স্থানান্তর করে, কারণ কোলকাতার সঙ্গে হুগলী নদী, ভৈরব নদী এবং পদ্মা নদীর মাধ্যমে রাজশাহীতে সহজে যোগাযোগ করা সম্ভবপর হয়। এর ফলে এই জায়গায় ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। ১৮৭৬ সালে “রাজশাহী” রাংলাদেশের প্রথম পৌরসভাগুলোর অন্যতম পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভে করে। সময়, প্রয়োজন এবং উন্নয়নের তাগিদে ১৯৯১ সালে এটিকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়। কিছু পন্ডিত মনে করেন হিন্দু শাসক রাজা থেকে “রাজ” এবং মুসলিম শাসক মাহমুদ শাহ, বারবাক শাহ এবং জালাল উদ্দীন শাহ এর উপাধি ‘শাহ’ থেকে রাজশাহী নামের উৎপত্তি। বাংলদেশের প্রখ্যাত আউলিয়া হযরত শাহ মখদুম (রহঃ) এর স্মৃতি বিজরিত পূণ্য ভুমি পদ্মা বিধৌত শিক্ষা নগরী, সিল্ক ও আমের জন্য প্রসিদ্ধ রাজশাহী শহরের কেন্দ্র হতে প্রায় ২ কি.মি. উত্তরে এবং রাজশাহী রেল স্টেশন হতে প্রায় ১ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে রাজশাহী বিমান বন্দর সড়কের পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে ও শোভনীয় দালান কোঠায় সজ্জিত ১৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী কারিগরি বিদ্যাপিঠটির নাম রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।

১৯৬৩ সালে তৎকালীন সরকারের আদেশে এই ইন্সটিটিউটের কাজ শুরু হয়। তখন ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল এই দুটি প্রযুক্তিতে শিক্ষা দেওয়া হত। পরবর্তীকালে কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে সিভিল, পাওয়ার, ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার প্রযুক্তি চালু করা হয়। বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত ক্রমবিকাশ ও উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে মেকাট্রনিক্স ও ইলেকট্রোমেডিক্যাল প্রযুক্তিসহ এখানে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে।

এ পর্যন্ত কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক পরিচালিত সান্ধ্যকালীন ট্রেডকোর্স ৩৬০ ঘন্টা মেয়াদী (স্ব-অর্থায়নে) পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে আশে পাশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপকারে আসছে। এ পর্যন্ত ২৭টি ব্যাচে বেসিক ট্রেড পরিচালিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষক বৃন্দের কম্পিউটার প্রশিক্ষন কোর্স মোট ২২টি সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে বহু শিক্ষক কর্মরত আছেন যা দেশের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে। নিয়মিত কোর্স এর পাশাপাশি স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় বিদেশের চাহিদা উপযোগি দক্ষ কারিগর সরবরাহের লক্ষ্যে ৬ মাসের সান্ধ্যকালীন ট্রেড কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে এই ইন্সটিটিউটে। বর্তমানে প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিং, ম্যাসন, ওয়েল্ডিং এবং ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং বিষয়ের উপর প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষিত বেকার ও উচ্চতর শিক্ষায় ভর্তির সুযোগ বঞ্চিতদের ট্রেড ভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষন দিয়ে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করা একান্ত প্রয়োজন। একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থার চাহিদার প্রেক্ষাপটে দেশে ও বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে তাতে স্বল্প মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠিকে জনশক্থিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। সর্ট কোর্সে প্রশিক্ষনের বিষয়ে সাধারন জনগনের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষন বিস্তারের মাধ্যমে বাংলদেশের দারিদ্র বিমোচন ও প্রকট বেকারত্ব দূর করে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।