সাফল্যের গল্পগাথা


কন্টকাকীর্ন পথের শেষে থেকে যায় মসৃন পথ
ইঞ্জিঃমোঃ আনোয়ার হোসাইন সহকারী প্রকৌশলী (TGTDCL) ডুয়েট ,এম ই-১৪ সিরিজ ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং( পাওয়ার টেকনোলজি ) রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট,রাজশাহী পাশের সনঃ২০১৩

“পড়ালেখায় মনোনিবেশ করা, আমার পক্ষে এতটা সহজ ছিল না । তবে বিশ্বাস ছিল এটা আমাকে যথাযথ মূল্য দিবে।“ ছোটবেলায় মা বলতেন তোকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবো । ফলাফল প্রকাশের পর এসএসসির রেজাল্ট আশানুরুপ না হওয়ায় মায়ের কথামত ভর্তি হই ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাওয়ার টেকনোলজিতে। প্রথমে কিছুই বুঝতাম না, শ্রদ্ধেয় স্যারদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে জটিল বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করি যেখানে শেখানো হয়েছিল মেকানিক্স, হাইড্রোলিক্স, ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিন, সার্কিট, ইলেক্ট্রিক্যাল ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, অটোমোটিভ মেকানিক্স ও পাওয়ার প্ল্যান্ট সহ অন্যান্য জটিলতর বিষয়। বিষয়ভিত্তিক পড়াশুনা কিভাবে সহজে আয়ত্ত করতে হয় তাহা শিখেছিলাম আমার শ্রদ্ধেয় মোহম্মদ আব্দুর রশীদ মল্লীক স্যার নিকট হতে। যাহা আমাকে উচ্চ শিক্ষায় ও প্রাকটিক্যাল ফিল্ডে অসামান্য অবদান রেখেছে। পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পড়া অবস্থায় আমরা গাড়ির লাইটিং সিস্টেম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, ব্রেকিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম সহ যাবতীয় সমস্যা ও সমাধান আয়ত্ত করি যাহা আমাকে চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় খুব সহজে উত্তীর্ণ করে। পলিটেকনিকের জ্ঞান আমাকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিতে সাহায্য করে। আমার বিশ্বাস কেউ যদি পলিটেকনিকে অধ্যয়নরত অবস্থায় ডিপার্টমেন্টাল বিষয় (থিওরি ও প্রাকটিক্যাল) খুব ভালোভাবে রপ্ত করে তাহলে চাকরির দৌড়ে সে অগ্রিম ৭০% এগিয়ে গেল। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলাফল আজ আমি অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে যুদ্ধ করে বর্তমানে প্রথম শ্রেনীর সরকারি চাকরি করছি। পলিটেকনিক পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা এখন টেসলা, মেটা, মিতসুবিশির মত জায়ান্ট কোম্পানিতে দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। আমাদের বড় ভাই হাসনাত বাদশা ভাই বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া পলিটেকনিক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে আছেন (Civil; Passing Year: 2006; RPI)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন “ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই” এবং সত্যি তাই আমরা উন্নত দেশের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সেক্টরে যাহা চোখে পড়ার মত। একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বেতন ৬০০০০/৭০০০০ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৮৩০০০ টাকা (পাওয়ার সেক্টর) যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটা একটা স্বপ্নের মত। শুধু চায় পরিশ্রম আর সময়ের সদ্ব্যবহার। শ্রদ্ধেয় মোহম্মদ আব্দুর রশীদ মল্লিক স্যার সবসময় বড় হওয়ার সপ্ন দেখাতেন এবং সময়ের সদ্ব্যবহার কিভাবে করতে হয় এটা স্যারকে দেখে শিখেছি যাহা আমাকে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌ পলিটেকনিকে পড়ে নিজেকে ধন্য মনে করি এবং আমি আমার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে গর্ববোধ করি।

অধ্যক্ষ

দর্শক সংখ্যা

  • আজকে 853
  • গতকাল 313
  • এই সপ্তাহে 511
  • এই মাসে 927
  • এই বছরে 26134
  • সর্বমোট 26134